প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, তাড়াহুড়ো করে আইনটি পাস করা হবে না; সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে তা চূড়ান্ত করা হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইসিটি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে কোনো সাংবাদিক যেন অন্যায়ভাবে হয়রানি বা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা বা ‘সেফগার্ড’ রাখার প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হলে আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাবও এসেছে বলে জানান তিনি। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে আইনের অপব্যবহার থেকে সুরক্ষার বিষয়টি নিয়েও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আইনটি পাসের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে আইন পাস করব না। সেখানে আলাপ-আলোচনা হবে, বিরোধী দল-সরকারি দল সবাই আলোচনা করবে। সংসদের বাইরেও বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়াম হবে, সেখান থেকেও মতামত আসবে।’
তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ রোধ করা এবং তরুণ সমাজকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করাই প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম লক্ষ্য। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের প্রবণতা থেকে সমাজকে বের করে আনতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারিবারিক বন্ধন—সবকিছু টিকিয়ে রাখতে হবে। দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে আইনটি প্রণয়ন করতে চায় সরকার।
এর আগে সরকার জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমকেও খসড়া আইন নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
জি বাংলা ডেস্ক